অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার গত সপ্তাহের শুরুর দিকে উদ্বৃত্ত সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগে ছিল। ইরানে ইসরায়েল হামলা চালানোর পর তেহরান পাল্টা প্রতিশোধের ঘোষণা দিলে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহে বড় বিঘ্নের আশঙ্কা তৈরি হয়। এর প্রভাবে পণ্যটির দাম এক লাফে ১৩ শতাংশ বেড়ে জানুয়ারির পর সর্বোচ্চে পৌঁছায়।
ওপেক প্লাসের জ্বালানি তেল উত্তোলন সক্ষমতা ইরানের বর্তমান উত্তোলনের প্রায় সমান। বার্তা সংস্থা রয়টার্স বিশেষজ্ঞ ও ওপেক পর্যবেক্ষকদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, ইরান থেকে জ্বালানি তেল সরবরাহ ব্যাহত হলে তা পুষিয়ে নেয়া কঠিন হবে।
বর্তমানে ইরানের জ্বালানি তেল উত্তোলনের পরিমাণ দৈনিক ৩৩ লাখ ব্যারেল, যার মধ্যে ২০ লাখেরও বেশি রফতানি হয়। ইসরায়েলি হামলায় এখন পর্যন্ত ইরানের জ্বালানি তেল অবকাঠামো বা রফতানিতে কোনো সরাসরি প্রভাব পড়েনি। তবে বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করছেন, হামলার কারণে সরবরাহ ব্যাহতের মতো ঘটনায় এ ঘাটতি পূরণ করতে হলে ওপেক প্লাসের হাতে অন্য কোনো সংকট মোকাবেলার মতো অতিরিক্ত মজুদ থাকবে না। এছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলোর অবকাঠামো বা উপসাগরের জ্বালানি তেল চলাচলে ইরান বাধা সৃষ্টি করলে পরিস্থিতি আরো গুরুতর হয়ে উঠবে।
উল্লেখ্য, ইরান এর আগেও হরমুজ প্রণালি দিয়ে জ্বালানি তেল পরিবহন বন্ধ করে দেয়ার হুমকি দিয়েছিল। এ প্রণালির মাধ্যমে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ জ্বালানি তেল সরবরাহ হয়। সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও জ্বালানি তেল সরবরাহে এ পথ ব্যবহার করে।
জর্জ লিয়ন নামের এক বিশ্লেষক এ বিষয়ে বলেন, ‘যদি ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেয়, তাহলে জ্বালানি তেলের বাজার আরো ঊর্ধ্বমুখী হয়ে উঠতে পারে। সে সময় পণ্যটির দাম বাড়তে পারে ব্যারেলে ২০ ডলারেরও বেশি।’
ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের কারণে বিশ্ববাজারে গত সপ্তাহের লেনদেনের শেষদিনে জ্বালানি তেলের দাম বাড়ে ৭ শতাংশের বেশি। অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের আন্তর্জাতিক বাজার আদর্শ ব্রেন্টের দাম গত শুক্রবার ব্যারেলে ৫ ডলার ১০ সেন্ট বা প্রায় ৭ দশমিক ৪ শতাংশ বেড়েছে। প্রতি ব্যারেলের মূল্য স্থির হয়েছে ৭৪ ডলার ৪৬ সেন্টে। সে সময় মার্কিন বাজার আদর্শ ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েটের (ডব্লিউটিআই) দাম বেড়েছে ৫ ডলার ১০ সেন্ট বা ৭ দশমিক ৫ শতাংশ। ব্যারেলপ্রতি মূল্য স্থির হয়েছে ৭৩ ডলার ১৫ সেন্টে।